Tag Archives: আজিজুর রহমান দুলাল

২৬ মার্চ-মহান স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট।

স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

২৬ মার্চ-মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালি জাতির জন্য চিরস্মরণীয় একটি দিন। এদিন স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি দীর্ঘদিনের শোষন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র যুদ্ধে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি চূড়ান্ত বিজয়, একটি লাল-সবুজের পতাকা, একটি স্বাধীন ভূখন্ড।

dd

ee

 

Advertisements

তাকিও বৃষ্টি ফোটায়

raining

যেদিন প্রথম শুনিয়েছিলাম গান
বলেছিলে তুমি আহা! কী সুর! কী সুধা!
আজও গায় আমি আনমনে
শোনে না কেউ, বলে না অমন করে
মনের কোণে তাই কী যেনো এক সুপ্ত ক্ষুধা।

জানি গলায় আমার নেই সুর তেমন
তবু তাই ছিলো তোমার কাছে সুধার মতোন।

নেই আজ তুমি, তোমার ঠায় আজ কবিতায়
হারিয়েছি তোমায়, আজ তুমি ছবি তাই!

আজও তুমিও কী খোঁজো আমায়?
তাহলে তাকিও বৃষ্টি ফোটায়।

উপেক্ষিত বন্ধু

Upekkhito bondhu

বেসরকারি চাকুরীজীবি আরমান ঈদের ছুটিতে পরিবারসহ বাড়ি ফেরে। এসেই ফোন করে বন্ধু রবিনকে “কী রে দোস্ত, কোথায় আছিস?” রবিন বলে- এই তো আছি, কী বলবি বল। বন্ধুর রিপ্লাই দেয়ার স্টাইলে মন খারাপ হয়ে যায় আরমানের, এতোদিন পর বাড়িতে আসা দুজনের, দেখা করবে, একসাথে অনেক মজা করবে অথচ… 😦
ছোটো বেলা থেকে একসাথে বেড়ে ওঠা আরমান সকল কাজে গুরুত্ব দেয় বন্ধু রবিনকে, এমনকি নিজের পরিবারের চেয়ে বেশি। ছোটোবেলায় একবার বন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার মায়ের অসুস্থতায় একাই দৌড়াদৌড়ি করেছিলো আরমান। ওষুধ কেনা থেকে শুরু করে নিজের সব কাজ ফেলে আন্তরিক সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে বন্ধুর মাকে সুস্থ করে তোলে সে। এমন একটা ঘটনার পরেও সামান্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেনি রবিন। তবুও তাতে দুঃখ নেই আরমানের। যে কোনো উপলক্ষে প্রথম SMS টা রবিনকেই দেয় সে। নিজের যে কোনো অর্জন বা ভালো লাগার যে কোনো বিষয় সবার আগে তাকেই জানায়। যে কোনো বিজনেস প্ল্যান বা বেড়ানোর চিন্তা মাথায় এলে বন্ধু রবিনকে না জানালে যেনো শান্তি হয় না তার। যে কোনো মজার ঘটনা বা মন খারাপের কথা বন্ধুকে সবার আগে জানানো চায়। কিন্তু রবিনের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, তার জগতে অন্য কিছু খেলা করে। অন্য বন্ধু বান্ধব আর পরিবারই যেনো তার সবকিছু, যদিও রবিনের যে কোনো দুঃসময়ে সবার আগে পাশে এসে দাঁড়ায় আরমান। রবিন তাকে গুরুত্ব দিক বা না দিক, আরমান তবুও সারাক্ষণ রবিনকে নিয়েই ব্যস্ত। একবার আরমানের ৫,০০০ টাকা প্রয়োজন ছিলো, কিছু না ভেবে বন্ধু রবিনের কাছেই চেয়ে বসে। টাকা দেয়ও সে। কিন্তু দুদিন না যেতেই টাকাটা ফেরত চায় রবিন। ফেরত দিতে না পারায় দুটো কথাও শোনায় সে। অথচ কদিন আগেই রবিনের স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালের খরচে অফেরতযোগ্য অংশীদার হয়েছিলো আরমান। দিনের পর দিন বন্ধুর কাছে বারবার উপেক্ষিত হয়েও ছ্যাচড়ার মতো বন্ধুর জন্য মন কাঁদতো তার সবসময়। এ নিয়ে আমি নিজেও কতোবার ওকে কথা শুনিয়েছি- “যে তোর জন্য সামান্যতম চিন্তাটুকুও করে না, তার জন্য এতো পরান পোড়ে ক্যান রে তোর?” আরমানের জন্য রবিনের উপেক্ষা ছিলো নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার, এটা আমরা সবসময়ই লক্ষ্য করতাম। মানুষের আচার-ব্যবহার, কথাবার্তা যে তার অন্তঃস্থ অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে; মুখে না বললেও বুঝিয়ে দেয় অনেক কিছু। যায় হোক, আরমান রবিনকে ফোন করলেই উপেক্ষার ঢঙে উত্তর “কী বলবি বল” আর ব্যাক্তিগত যে কোনো বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলেই উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে চলাটাকে আরমানের হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করতে থাকে। এভাবে অনেক দিন পেরিয়ে যায়।
একদিন হঠাৎ রবিনের এক বন্ধু মারফত আরমান জানতে পারে যে, রবিন হাসপাতালে অ্যাডমিটেড। খবর নিয়ে সে জানতে পারে বন্ধুর অবস্থা আশংকাজনক, দুটি কিডনিই অকার্যকর হয়ে গেছে তার, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে কিডনি ফেলিউর বলা হয়ে থাকে। ইমিডিয়েট কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। অথচ আরমানের ফ্লাইটের বাকী দুদিন। কাউকে কিছু না জানিয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিজের একটি কিডনি দান করে বন্ধুর জীবন বাঁচাতে। এর দুদিন পর মেয়ে শ্রাবন্তী কে কোলে নিয়ে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিতে যায় আরমান। মেয়ে শ্রাবন্তীকে দাদীর কোলে রেখে এসে সবার অগোচরে ভালোবাসার আলিঙ্গনে অশ্রুসিক্ত বিদায় নেয় স্ত্রীর কাছ থেকে। এরপর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া আরমানকে বহনকারী মালয়েশিয়াগামী ঐ বিমানটি পথিমধ্যে নিখোঁজ হলে বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে। কিছু সময় পূর্বে বিদায় দেয়া সন্তানের দূর্ঘটনায় মায়ের গগনবিদারী আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, জ্ঞান হারান মা। প্রাণপ্রিয় স্বামীর এ খবরে মুহুর্তেই পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার এসে ভর করে স্ত্রী শশীর উপরে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আরমানের প্রিয়তমা স্ত্রী শশী। মেয়ে শ্রাবন্তী কিছু বুঝে উঠার আগেই দাদী আর মায়ের এই অবস্থা দেখে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। ওদিকে রবিনও হাসপাতাল থেকে আরমানের এই অবস্থার কথা জানতে পেরে ব্যথিত হয়, কিন্তু তখনও সে জানে না কার জন্য সে এখনও পৃথিবীর আলো দেখতে পারছে। পরে রবিন যখন জানতে পারে, তার শরীরের মধ্যে আরমানের কিডনি প্রতি মুহুর্তে তার রক্ত পরিশোধন করে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তখন পৃথিবীর সমস্ত অনুশোচনা যেনো এসে ভর করে তার উপরে। পেছনের সব উপেক্ষার কথা মনে পড়ে যায় তার, বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। সে বুঝতে পারে- যেসব বন্ধুদের সে এতাদিন গুরুত্ব দিয়ে এসেছে, আজ বিপদের দিনে কেউই পাশে নেই তার, অথচ জীবনভর যাকে উপেক্ষা আর অবহেলা করে গেছে, তার দেয়া কিডনির কারণেই রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে তার শরীরে, আজও সে উপভোগ করছে সুন্দর এ পৃথিবীর আলো-বাতাস। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। না ফেরার দেশে চলে গেছে রবিন কর্তৃক সারাজীবন উপেক্ষিত বন্ধু আরমান। টপ করে দু ফোটা জ্বল গড়িয়ে পড়ে পত্রিকার পাতার উপর। বন্ধু রবিনের চোখের জ্বলে সিক্ত হয় পত্রিকার পাতায় বন্ধু আরমানের না ফেরার খবরটি।

লেখকঃ আজিজুর রহমান দুলাল