Category Archives: অসঙ্গতি

ইন্টারনেটের ভয়ংকর থাবা থেকে শিশুকে রক্ষা করুন (Protect your kids from pornography)

Protect your kids from Pornography

আপনি জানেন কী আপনার সন্তান বা ছোটো ভাই/বোন ইন্টারনেটে গোপনে কী করছে? পর্ণোগ্রাফীতে আসক্ত হয়ে পড়ছে না তো? ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে না তো! নিজেকে সে ঠেলে দিচ্ছে না তো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে? পর্ণোগ্রাফী তার দূরন্ত শৈশবের বুকে পেরেক ঠুকে দিচ্ছে না তো?
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত এক আর্টিকেলে বলা হয়ঃ  ১১ থেকে ১৪ বছরের যেসব ছেলেমেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৬০ ভাগ নিজেদের মধ্যে এমনসব তথ্য ও চিত্র আদান-প্রদান করছে, যা তাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। অর্ধেক শিশু এমন সব ছবি ইন্টারনেটে দেখছে যা তাদের মানসিকভাবে আহত করছে। ইন্টারনেটে কী আছে সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেয়ে কী নেই- তার উত্তর দেয়া হয়তো সহজ হবে। আমরা জানি- প্রতিটি আবিষ্কারের রয়েছে দুটি দিক- একটি ভালো, অন্যটি খারাপ। পর্নোগ্রাফির ভয়ংকর থাবা থেকে আমাদের তরুণ সমাজকে মুক্ত রাখা এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। আপনার সন্তান স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ চাইলেই তাকে দিয়ে বসবেন না। তাঁকে বোঝান কোনটি সঠিক, কোনটি ভুল।
বাবা-মায়ের কর্ম ব্যস্ততায় শিশুগুলো বেড়ে উঠছে একা একা। তাই ধীরে ধীরে ভার্চুয়াল বন্ধু আর স্মার্ট ডিভাইসগুলো হয়ে উঠছে ওদের নিত্যসঙ্গী। তাই যতটা পারেন বাচ্চার সঙ্গে মজার সময় কাটান। খেলুন, বই পড়ুন,গল্প শোনান। এছাড়া ছোটদের জন্য লেখা অনেক ভালো ভালো বই বাজারে পাবেন, সেগুলো ওকে উপহার দিন এবং ওকে সাথে নিয়ে আপনিও সেগুলো পড়ুন। দেখবেন ও আস্তে আস্তে এসবে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।
শিশুকে ঘরের বাইরে যেতে, বাস্তবে নতুন নতুন বন্ধু বানাতে এবং মাঠে খেলাধূলা করতে উৎসাহিত করুন। এই বয়সে তাদের ভার্চুয়াল বন্ধুর কোনো প্রয়োজন নেই। তাই ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের অবস্থান একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। আপনার অবহেলার কারণে যদি আপনার শিশুটি অনৈতিক কাজকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার দায়ভার কাকে দিবেন?। আমরা এরকমটি একেবারেই প্রত্যাশা করি না। আপনার শিশুটি বেড়ে উঠুক সুস্থ ও সুন্দরভাবে। সচেতন হোন, সাবধান থাকুন। ইন্টারনেটের ভয়ংকর থাবা থেকে শিশুকে রক্ষা করুন, ভিডিওটি শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন হতে সহায়তা করুন। আর সবার আগে এই চ্যানেল থেকে প্রকাশিত পরবর্তী লেটেস্ট ভিডিও পেতে ইউটিউব চ্যানেলটিতে সাবস্ক্রাইব করে নিন। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।

সেই ঈদ এই ঈদ

eid

বাবা-মায়ের সবচেয়ে ছোট সন্তান সৌরভ একদা গ্যাদা নামেই অভিহিত ছিলো, দাদু শখ করে গেদু ডাকতো। বড় হওয়ার পর থেকে সৌরভ কখনোই রোজা বাদ দিতো না, নামাজও পড়তো ৫ ওয়াক্ত। সেবার দেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিলো। রাতের বেলা বৃষ্টিতে টিনের চালের মধুর শব্দে আর প্রকৃতির মিষ্টি-শীতল হাওয়ায় ফজরের নামাজের জন্য ওকে বেশ কয়েকবার ডাকা হলেও মায়ের ডাকে এবার আর ঘুম ভাঙেনি সৌরভের। তবে আগেরদিন চাঁদরাত উপলক্ষে পিকনকেরই বা দোষ কম কীসে! স্বভাবসূলভ ১০ টার পরিবর্তে পিকনিকের জন্যই তো সে রাতে ওকে বিছানায় যেতে হয়েছিলো রাত ১২ টায়।
সকালে বাড়ির উঠোনে ঘর থেকে সদ্য ছাড়া পাওয়া হাঁসের প্যাক প্যাক শব্দে ঘুম ভাঙতেই উঠে যখন দেখে সকাল ৭ টা বাজে, তখন ঈদের ভোরে ফজরে উঠতে না পারার জন্য নিজের চুল ছিড়তে থাকে আর মায়ের কাছে গিয়ে রাগ দেখাতে থাকে- “ভোরে কেনো ডাকোনি আমাকে? ” যাই হোক, বিছানার চাদরের নিচে মা সৌরভের জন্য ৫ টাকার কচকচে নতুন নোট রেখে দিয়েছিলো। চাচা-চাচী আর বড় ভাইদের নিকট থেকে ২ টাকার নতুন নতুন নোট পেয়ে বেশ খুশি খুশি লাগছিলো সৌরভের। ঈদের নামাজের এখনো ঘন্টাখানেক বাকী, কিন্তু সৌরভ তখনো জানতো না যে তার জন্য কী সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে, বড় ভাই সাজিদ ওর জন্য বাজারের সবচেয়ে লেটেস্ট প্যান্ট আর জামা কিনে লুকিয়ে রেখেছিলো। গোসল শেষ করে এসে ও যখন আগে থেকে ঠিক করে রাখা জামা-কাপড় পরতে যাচ্ছে যেটা পরে ঈদগাহে যাবে, ঠিক তখনই পেছন থেকে ভাইয়া সারপ্রাইজ বলে চিৎকার করে উঠলো। সৌরভ বললো- কীসের সারপ্রাইজ ভাইয়া? প্যাকেট খুলতেই চোখে পানি চলে এলো সৌরভের। কারণ ওর মনটা বেশ খারাপ ছিলো এজন্য যে- ঈদে এবার ওকে নতুন জামা-কাপড় দেয়নি কেউ। নতুন জামা-প্যান্ট পেয়ে ওর খুশি আর দেখে কে? এক ঝটকায় নতুন জামা-কাপড় পরেই দুই হাত দুদিকে প্রসারিত করে মুখ দিয়ে ভুম ভ্রুম শব্দ করতে করতে দে ছুট! মা ডেকে বলে ” শুনে যা সৌরভ, সেমাই খেয়ে যা…, কার কথা কে শোনে, ভ্রুম ভ্রুম করতে করতে মুখে ফেনে তুলে একটু ক্ষুধা পেলে এবার বাড়িতে ফিরলো সে। চাচা-চাচী আর ভাইদের নিকট থেকে ২ টাকার কচকচে নোটে মোট ১২ টাকা পেয়ে ভাবতে থাকলো এমন ঈদ কেনো প্রতিদিন আসে না? সেমাই খাওয়া শেষে ঘর থেকে যেই না বেরোতে উদ্যত হয়েছে, মা বিছানার তলা থেকে বের করে ৫ টাকার নোটটি সামনে ধরতেই
মাকে জড়িয়ে ধরে কিছু বলার ভাষা পেলো না সৌরভ, পেছনের সব আনন্দকে যেনো ম্লান করে দিয়েছে মায়ের দেয়া ঐ ৫ টাকার নোটটি। এক গাল হাসি দিয়ে টাকাটা পকেটে পুরতে পুরতে তার ছক কষা শেষ যে ঈদগাহে গিয়ে কী কী কিনবে।

ঈদের নামাজ শেষে পেয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, চমচম, দানাদার মিষ্টি, রঙিন বেলুন আর কতো কী-ই না কিনলো সে। এবার চাচা ও বন্ধুদের বাড়ি বেড়ানোর পালা। পালা করে সবার বাড়িতে সেমাই-মিষ্টি ইত্যাদি উপাদেয় খাবার খেয়ে বাড়িতে এসে একটুও বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজন মনে করলো না সে। ঘুরাঘুরির পর্ব যে এখনো বাকী তার। এবার ২-১ জন বন্ধুকে সাথে নিয়ে নদীর ধার, বটতলা, আর সূর্যের সাথে ভাব জমিয়ে রোদে রোদে ঘুরতে থাকা। এরপর বিকেল বেলায় মামা বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা। সেখানে একগাদা খালাতো ভাই-বোন, মামাতো ভাই-বোন, মামা-মামী, নানী সবার সাথে ঈদ যেনো এক স্বর্গীয় উৎসবে পরিণত হলো।

গল্পটা এভাবেই চলতে পারতো, কিন্তু বছর দুয়েকের মধ্যেই বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়িতে মা চলে গেলো তার বাপের বাড়ি, বাবা সৌরভকে যেতে দিলেন না, এরপর বড় ভাই সাজিদ অবশ্য নানা বাড়িতেই মানুষ হয়েছিলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ঘরে নতুন মা এলো সৌরভের। খুব অল্প বয়সে বিয়ে করায় ২৫ না পেরোনো মাকেও বিয়ে দিলো নানা বাড়ি থেকে। প্রথম কিছুদিন ভালো কাটলেও নতুন মায়ের গর্ভে সন্তান এলে কপাল পোড়া আরম্ভ হলো সৌরভের। অনেকটা দিন পেরিয়ে গেলো এভাবে………

ঢাকা শহরে এসে অন্যের রিকশা চালায় আজ সৌরভ। কদিন আগের গ্যাদা আজ রীতিমতো রিকশাচালক। ইতোমধ্যে বিয়েও করেছে সে, ঘরে তার ২ বছরের ফুটফুটে মেয়ে, নাম সুরভী। আজ আবার সেই ঈদ, মেয়ের জন্য ফুটপাত থেকে জুতসই জামা-কাপড়-জুতা পছন্দ না হওয়ায় গতকাল সন্ধ্যায় একটা শপিং মলে ঢুকে দাম জিজ্ঞাসা করতেই পকেটে যেনো টান পড়ে। বউয়ের জন্য নতুন শাড়ি, মেয়ের নতুন জামা আর নিজের জন্য নতুন একটা পাঞ্জাবী কেনার ইচ্ছা নিয়ে মার্কেটে গিয়েছিলো সে। ভাগ্যের পরিহাসে আজ সে রিকশাচালক হলেও ভেতরের গ্যাদা তো মরেনি আজও। বড় ভাইয়ের দেয়া নতুন জামায় চোখ অশ্রুসিক্ত হওয়া গ্যাদা আজো খুঁজে ফেরে তার দূরন্ত শৈশব। মেয়ের জন্য নতুন জামা কিনতেই পকেট খালি হয়ে আসে তার। নিজের জন্য না হলেও বউয়ের জন্য নতুন শাড়ি না নিলে যে ঈদটাই মাটি হয়ে যায়।
শপিং মলের হাজারো মানুষের ভীড়ে একটা নতুন শাড়ি হুট করেই ব্যাগে ভরার চেষ্টা করে সে। কিন্তু লুঙ্গি পরে শপিং করতে আসায় আগে থেকেই নজরে রেখেছিলো দোকানীরা, সাথে সাথে মেঝেতে শুইয়ে চোর চোর বলতে বলতে পিটানি শুরু করে সবাই মিলে। দুদিন পর নিজেকে সে আবিষ্কার করে হাসপাতালের বারান্দায়। চোখ খুলতেই ব্যাথায় ককিয়ে ওঠে সে, সেদিনের কথা মনে করে দুচোখের কোণা দিয়ে দুফোটা জল গড়িয়ে পড়ে তার। হঠাৎ করেই তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে দূরন্ত শৈশবের স্বর্গীয় ঈদ উদযাপনের কথা।
সুরভী আর তার মায়ের ঈদের খবর আর জানা হয়নি আমাদের।

এভাবেই গ্যাদারা তাদের স্বপ্নগুলো চোখের সামনে ধুলিস্যাৎ হতে দেখে দিনের পর দিন, সৌরভদের সৌরভ আর ছড়ায়না কখনোই; সুরভীরাও এভাবেই বিনষ্ট হয় অঙ্কুরেই। এভাবেই সৌরভদের ঈদ হয়ে যায় ধুলোমলিন আর রুপান্তরিত হয় যাতনার উপলক্ষে।
চূড়ান্ত পার্থক্য তৈরি হয় সেই ঈদ আর এই ঈদের।

 

লেখকঃ আজিজুর রহমান দুলাল

Also Published: http://www.somewhereinblog.net/blog/mardulal/30201186

চেতনার পুড়ি খ্যাতা

আজ হতে ৪৪ বছর আগে গো যারা
প্রাণ দিলে এ দেশের তরে,
রক্তস্রোতে ভাসলে যারা
প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে

ঘরে রেখে স্ত্রী
মা-বাবা ভাই-বোন
ঘুমায়ে রয়েছো একা একা
কবর গহীন কোণ।

বুলেটের থাবাকে করনিকো ভয়
কাপোনি দেখে রক্ত চোখ,
তোমাদের তরে দেখাই আজো
লোক দেখানো শোক।

ব্যবসা করছি তোমাকে নিয়ে
মরেও শান্তি নাই
চেতনার ব্যবসার পুঁজি গো তুমি
কোন দেশে আছি হায়!

তোমরা দিয়ে গেলে স্বাধীণ দেশ
ব্যবসা করছি ভালোই বেশ
নিজের উদর পূর্ণ করতে
নেই কোনো লাজ লেশ।

বিজয় দিবসে বলছি কী আজ
রাজাকার আমি নাকি!
না না ! জন্মেছি গো অনেক পরে
রাজাকার নই, নিশ্চয় পাকি।

চেতনার বাজার গরম রেখে
দাদাবাবুদের কোলে রেখেছি মাথা
বাঙালি সে তো মাথা মোটা
ভাবার সময় কই অযথা!

রক্ত যারা দিয়েছিলে ও ভাই
ফিরিয়ে দাও সে স্বাধীনতা
চেতনার ব্যবসা চাইনা আমি
চেতনার পুড়ি খ্যাতা।

যে দেশে নাই দারিদ্র-ক্ষুধা
ডাস্টবিনে কেউ কুড়ায়না ভাত
চেপে ধরে না কেউ কন্ঠ মোর
কোথা সে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ!