নারীর প্রতি সহিংশতাঃ পশ্চিমা সংস্কৃতি, সুশীল জীব ও ইসলাম

women right in bangladesh

বর্তমান প্রেক্ষাপটঃ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, রাস্তা-ঘাট, আজ কোথাও নিরাপদ নয় নারীরা।
কমছে না নারীর প্রতি সহিংশতা, বেড়েই যাচ্ছে দিনকে দিন। পত্র-পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই চোখে পড়ে নারীর প্রতি অমানবিকতা আর নৃশংশতা।

পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবঃ
পশ্চিমা সংস্কৃতি কী দিলো আমাদের? মেয়েদের জিন্স- টি-শার্ট, মিনি স্কাট ইত্যাদি পরিয়ে রাস্তায় বের করে সহজলভ্য, সস্তা আর কামনার বস্তু বানিয়ে দিলো পুরুষের জন্য। আমাদের শেখালো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের উপকারীতা ও প্রয়োজনীয়তা। আমরা পেলাম নতুন ফর্মুলা, এগিয়ে গেলো আমাদের দেশ, উর্ধ্বমুখী হলো ধর্ষনের পরিসংখ্যান।
আমরা যাদের অনুসরণ করে আধুনিক হওয়ার চেষ্টা করছি, তাদের দেশে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের হার আর প্রতি মিনিটে ধর্ষণের সংখ্যাগুলো আমাদের দৃষ্টি এড়ায় সহজেই।

সুশীল সমাজের অবদানঃ
প্রগতিশীল সুশীল নামক এক অদ্ভুত প্রজাতির জীব আছে এই দেশে, যারা সারাদিন এই বলতে বলতে মুখে ফেনা তোলে যে- “ধর্ম মেয়েদের বন্দী করে রেখেছে। এসো তোমাদের বন্দীশালা থেকে মুক্ত করি, যাতে করে মুক্তমনে মুক্তভাবে তোমরা চলতে পারো,” (আর মুক্তচিন্তার পুরুষগুলি মুক্তমাঠে তোমাদের বস্ত্রহরণ করতে পারে)।

নারীর সম্মানে ইসলামঃ
কোনো রাজনীতি, কোনো দর্শন, কোনো জাতীয়তাবাদ, কোনো সেক্যুলারিজম, কোনো কমিউনিস্ট কী পেরেছে নারীদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে? পেরেছিলো ইসলাম। ইতিহাস সাক্ষী, ইসলাম নারীদের বন্দী করেনি, সে যুগে নারীরা যখন শুধুমাত্র ভোগ্য বস্তু হিসেবে পরিগণিত ছিলো, সে যায়গা থেকে তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলো একমাত্র, শুধুমাত্র, কেবলমাত্র ইসলাম। আজও যেসব নারীরা লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অপমান আর নির্যাতনের শিকার, তাদের উদ্দেশ্যে বলি- ফিরে এসো সে পথে, যে পথ তোমায় দিতে পারে সম্মান, প্রাপ্য মর্যাদা।
রাসুল (সাঃ) নারীদের সম্মান দিয়েছেন। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “কেউ যদি কন্যাসন্তান প্রতিপালন নিয়ে কষ্টে পড়ে এবং ধৈর্য ধরে তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ করে যত্নসহকারে লালন-পালন করে এবং তাদের শিষ্টাচার করে গড়ে তোলে- কিয়ামত দিবসে এ কন্যা সন্তানরা তার জন্য জাহান্নামের মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়াবে।” (বুখারি, মুসলিম)
পবিত্র কোরানে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর।’ (সুরা নিসা : আয়াত : ১৯)

শেষকথাঃ ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মান রক্ষার্থে দিয়েছে অভূতপূর্ব ফর্মুলা। সমাজে ও রাষ্ট্রে এ ফর্মুলার বাস্তবায়নই পারে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে, পারে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে, সর্বোপরি নারীর সম্মান নিশ্চিত করতে। সেই সাথে পরিবর্তন করা প্রয়োজন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও। আসুন আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের যায়গা থেকে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। এ পৃথিবীকে করি নারী তথা সকলের জন্য নিরাপদ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s